Thursday, 6 February 2014

কবিয়াল সম্রাট-লোককবি রমেশ শীল
১৮৭৭ সালের ১০ মে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডীর শীলপাড়ায় সাধারণ এক পরিবারে রমেশ শীলের জন্ম। বাবার নাম চণ্ডীচরণ শীল, মা রাজকুমারী দেবী। ১১ বছর বয়সেই পিতৃহারা হন তিনি। তার ওপর নেমে আসে পরিবারের ছয় সদস্যের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব। রমেশ শীলের প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যাচর্চার সমাপ্তি ঘটে মাত্র চতুর্থ শ্রেণীর মাথায়। জীবিকার তাগিদে তিনি বার্মায় (মিয়ানমার) চলে যান। কিন্তু তার মন-প্রাণের সঙ্গে মিশে ছিল এদেশের মাটির সোঁদা গন্ধ। ১৮ বছর বয়সে নাড়ির টানে ফিরে আসেন জন্মভূমির মাটির কাছে। জীবনধারণের তাগিদে বেছে নেন বিচিত্র সব পেশা। এর মধ্যে পৈত্রিক পেশা ক্ষোরকর্ম, স্বর্ণশিল্পী, চালের গুদামে চাকরি, শৈল্য-কবিরাজি-হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা, কবিগান ও গণসংস্কৃতি চর্চাই ছিল প্রধান। রমেশ শীল পথে-প্রান্তরে ঘুরে স্বদেশ, মাটি ও মানুষের কথা বলেছেন। সমৃদ্ধ করেছেন বাংলার সংস্কৃতি ভাণ্ডারকে। তিনি বাঙালির লোকসংস্কৃতিকে পৌঁছে দিয়েছেন জগৎময়। রমেশ শীল জন্মেছিলেন প্রান্তিক সমাজের অন্ত্যজ পরিবারে। অশিা, গোত্রীয় নিগড়, হীনন্মন্যতা, সামাজিক পশ্চাৎপদতা, দারিদ্র্যপীড়ন আর ব্রিটিশ-পাকিস্তানি শাসন-শোষণ ও নিষ্পেষণ এসব প্রতিকূলতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করেই রমেশের বেড়ে ওঠা। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি শোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে রমেশের গান বেজে ওঠে রণতূর্যের মতো। রমেশ শীল আপন সৃজনকর্মে হয়ে ওঠেন সমাজের উত্তুঙ্গ শ্রেণীতে। হয়ে উঠলেন দ্রাবিড় ও গণমানুষের অনন্য নায়ক। ২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করেন। তাকে ভাগ্যবান বলা চলে, তার দোহার বিনয়বাঁশী জলদাস ও সহযোদ্ধা শাহ আবদুল করিমকে নিয়ে একসঙ্গে এ পদকে সম্মানিত হন তিনি। কবিয়াল সম্রাট-লোককবি রমেশ শীল ১৯৬৭ সালের ৬ এপ্রিল দেহত্যাগ করেন। তার বাড়ির পাশে নিজ আখড়ায় তাকে সমাধিস্থ করা হয়। 

ব্লগ তৈরী : ছৈয়দ ফয়সাল তথসূত্র: www.boalkhali.info

No comments:

Post a Comment